বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড

 বিনা ঝামেলাই ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার পদ্ধতি  

 

বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস বর্তমানে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম । এখানে অনলাইন এর মাধ্যমে বিনা পুঁজিতে বিজনেস করা যায় । ড্রপশিপিং বিজনেস হলো খুব কম সময়ে বিনা পুঁজিতে কিভাবে বিজনেস করা যায় তার একটি বাস্তব ধারণা । তাই এ ব্যবসা করার আগে আমাদেরকে এই ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে ।


 

তাই কিছু ধারণা নিয়ে বিনা পুঁজিতে কিভাবে অনলাইনে আমরা ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করব সে বিষয়গুলো আগে জানতে হবে । ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার আগে ড্রপশিপিং বিজনেস জিনিসটা কি সেই সম্পর্কে আগে ভালোভাবে ধারণা নিতে হবে ।

পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার জন্য কোন কোন বিষয় থেকে ধারণা নিতে হবে চলুন দেখি  

সঠিক নিস বা পণ্য নির্বাচন 

বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং বিজনেস করার জন্য আপনাকে প্রথমে নিস বা পণ্য  নির্বাচন করতে হবে ।  অর্থাৎ আপনি কোন পণ্যটি বিক্রয় করবেন সে পণ্যটি  আপনাকে নির্বাচন করতে হবে । সঠিক কোন নির্বাচন করতে না পারলে আপনি ব্যবসা করতে পারবেন না বা ব্যবসায় সফলতা আনতে পারবেন না ।  তাই পণ্য নির্বাচনটা খুবই জরুরি একটি বিষয় । 

যে কোন ব্যবসায়ে পণ্য  নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়   বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে যেমন, অনেকে জামা কাপড় বিক্রি করে,  অনেকে ওষুধ বিক্রি করে, অনেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে, অনেকে সিজনের ফলের ব্যবসা করে, অনেকে কসমেটিক্স প্রোডাক্ট বিক্রি করে । আপনাকে এই  ধরণের  একটি পণ্য বেছে নিতে হবে । 

বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খোঁজা 

আপনাকে বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খুঁজতে হবে। অর্থাৎ আপনার পণ্যটি আপনার ক্রেতার কাছে যিনি পৌঁছে  দিবেন তার নাম হচ্ছে সাপ্লায়ার । তাই সাপ্লায়ার বিশ্বস্ত হওয়া খুব জরুরী । কারণ অনেক ব্যবসায়ে  পণ্য  হাতে পাওয়ার পর ক্রেতা সে পণ্যের দাম পরিশোধ করে সাপ্লায়ারের হাতে । আর সাপ্লায়ার সে পন্যের মূল্য ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে এসে আপনাকে দিবে । 

তাই বুঝতেই পারছেন সাপ্লায়ার বিশ্বস্ত হওয়াটা কতটা জরুরী । তাই আপনাকে একটা বিশ্বস্ত ডেলিভারি বয় খুঁজে বের করতে হবে । এই সাপ্লাইয়ারটা আপনার পরিচিত, স্থানীয় বা এলাকার হলে খুব ভালো হয় । 

অনলাইন স্টোর তৈরি 

এই ব্যবসায়ের জন্য আপনাকে অনলাইন স্টোর তৈরি করতে হবে । অর্থাৎ আপনি যে পণ্যগুলো বিক্রি করবেন সে পণ্যগুলো আপনার ওয়েবসাইটে সাজিয়ে গুছিয়ে মানুষের কাছে প্রচার করতে হবে । পণ্য আপনার কাছে মজুদ রাখার প্রয়োজন নেই । কারণ আপনি তো পণ্য উৎপাদনকারী বা কোন পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পণ্য নিয়ে এসে ক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন ।


কিন্তু যে পণ্যগুলো বিক্রি করবেন সে পণ্যগুলো আপনার ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য যে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবেন সেটাই হলো অনলাইনে স্টোর । সেখান থেকে মানুষ পছন্দ করবে এবং পণ্যের জন্য আপনাকে অর্ডার দিবে । 

কাস্টমার আকর্ষণ ও মার্কেটিং

কাস্টমার আকর্ষণ হচ্ছে কাস্টমার আপনার পন্যের উপর কতটা আকর্ষিত হবে সে বিষয় । আর মার্কেটিং অর্থাৎ বাজারজাতকরণ । আপনাকে বাজারজাতকরণ ভালো করতে হবে । পণ্যটি যত আকর্ষণীয় হবে কাস্টমাররা তত বেশি ক্রয় করার জন্য উৎসাহিত হবে । তাই কাস্টমার আকর্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । 

যে কোন ব্যবসা করতে গেলে প্রথমে আপনাকে কাস্টমারকে আকর্ষণ করা জানতে হবে । যেমন পণ্যের সুন্দর প্যাকেট বানাতে হবে, কাস্টমারের সাথে বা ক্রেতার সাথে সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে, পণ্যের মূল্য ছাড় দিতে হবে ইত্যাদি । এই রকম বিভিন্ন উপায় রয়েছে সে উপায় গুলো অবলম্বন করতে হবে । 

লাভ লোকসান হিসাব

লাভ লোকসান হিসাব করা জানতে হবে । একটি পণ্য বিক্রি করে আমার কতটা লাভ হচ্ছে সে বিষয়টার দিকে খেয়াল রাখতে হবে । একটি ব্যবসায়ে ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান হিসাব খুবই জরুরী একটি বিষয় । এমন কিছু পণ্য আছে যেগুলো বিক্রি বেশি হয়, কিন্তু লাভ কম হয় । আবার এমন অনেক পণ্য আছে যেগুলো অল্প পরিমাণে বিক্রি হয় কিন্তু লাভ বেশি হয় । তাই সে বিষয়গুলো আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে । 

পেমেন্ট ও ডেলিভারি সিস্টেম সহজ রাখা

পেমেন্ট ও ডেলিভারি সিস্টেম সহজ রাখা তার মানে হচ্ছে ক্রেতারা পণ্য ক্রয় করে আপনাকে যে মূল্য বা অর্ধ পরিশোধ করবে সেই সিস্টেমটা সহজ হতে হবে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বর্তমানে অনলাইনে ক্রেতারা ডেলিভারি বয় এর কাছ থেকে পণ্য নিয়ে চেক করে তারপর মূল্য পরিশোধ করে । তাই এসব ক্ষেত্রে আপনি আগে মূল্য চাইতে পারবেন না । 


আবার অনেক ক্রেতা আপনাকে মূল্য আগে পরিশোধ করবে না । তাই ডেলিভারি দেওয়ার পর আপনাকে মূল্য গ্রহণ করতে হবে । বর্তমানে এই সিস্টেমটি চলছে । তাই আপনাকেও এই পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে । 

আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন

আপনার একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট থাকলে খুব ভালো হয় । একটা ওয়েবসাইট থাকলে আপনি ব্যবসা করতে অনেক রকমের সুবিধা পাবেন । আপনার ওয়েবসাইটটি থেকে আপনি পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন । ক্রেতাদের সাথে সব সময় যোগাযোগ করতে পারবেন । তাদের পছন্দসই জিনিস প্রদান করতে পারবেন বা তারা যেমনটা চাই সেভাবে কাজ করতে পারবেন । 

অনেকে পণ্য ক্রয় করার পরে আবার সেই পণ্য এক্সচেঞ্জ বা পরিবর্তন করতে চাই । অনেক সময় রং পছন্দ হয় না, আবার অনেক সময় সাইজে ভুল হয়, সেক্ষেত্রে তারা আবার পরিবর্তন করতে চাই । তাই তাদের সাথে সব সময় যোগাযোগ থাকলে এই কাজগুলো সহজে আপনি করতে পারবেন । এসব কারণে আপনার একটি ওয়েব থাকা খুবই জরুরী । 

পাইকারি ব্যবসায়ী নির্বাচন

আপনাকে ব্যবসায় করার জন্য কোন পাইকারি বা কোন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে । কারণ আপনি একটি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বা কোন পাইকারি ব্যবসায়ের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে এসে পণ্যটি  বিক্রি করবেন । ড্রপশিপিং  বিজনেসের ক্ষেত্রে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনাও জরুরী । 

তাই একটি পাইকারি ব্যবসায়ী নির্বাচন বিজনেসের জন্য খুবই জরুরী । পাইকারি ব্যবসায়ী যদি আপনাকে সাহায্য না করে তাহলে আপনি এ ধরনের ব্যবসা করতে পারবেন না । 

খুচরা ব্যবসায়ী নির্বাচন

আপনাকে একটা খুচরা ব্যবসায়ী নির্বাচন করতে হবে । কারণ অনলাইনে আপনার পণ্য  বিভিন্ন ক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন । আবার কিছু কিছু ব্যবসায় আছে যেগুলো একটা নির্দিষ্ট খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে আপনি পণ্য  বিক্রি করতে পারেন । তাই ড্রপশিপিং বিজনেস এর ক্ষেত্রে খুচরা ব্যবসায়ী নির্বাচন করা জরুরী ।

অনেক পণ্য আছে যেগুলো কিছু নির্দিষ্ট খুচরা ব্যবসায়ী সেই পণ্যগুলো ক্রয় করে থাকে। তাহলে বুঝতেই পারছেন খুচরা ব্যবসায় নির্বাচন করা কতটা জরুরী । কিছু পণ্যের অনেক ক্রেতা থাকে আর কিছু পণ্যের কিছু নির্দিষ্ট ক্রেতা থাকে । তাই সে ক্রেতাগুলোকে আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে । 

কমঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা

কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসাগুলো আপনাকে বেছে নিতে হবে । অর্থাৎ যেসব ব্যবসায় করতে ঝুঁকি কম বা বিনিয়োগ কম লাগে এ ধরনের ব্যবসা গুলো আপনাকে বেছে নিতে হবে । তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে এবং লাভের পরিমাণ বেশি হবে । আমরা তো ব্যবসা করি লাভের জন্য। তাই যেসব ব্যবসা করলে ঝুঁকি কম থাকবে আর লাভ বেশি হবে এমন ধরনের ব্যবসাগুলো নির্বাচন করতে হবে ।


যেসব পণ্যগুলো মানুষের বেশি প্রয়োজন বা বেশি কাজে লাগে এমন ধরনের কোন নির্বাচন করতে হবে । যেমন অসুখ হলে রোগীকে ওষুধ খেতেই হবে, তাই রোগীর জন্য ওষুধ খুবই জরুরী একটি পণ্য । তাই যারা অসুস্থ তাদের কাছে ওষুধ বিক্রি করতে হবে । 

কাস্টমার পাওয়ার সেরা কৌশল

কাস্টমার পাওয়ার কৌশল জানতে হবে অর্থাৎ যেসব মানুষের যে জিনিসগুলো প্রয়োজন তাদের কাছে সেগুলোই বিজ্ঞাপন পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে । যাতে তারা সে জিনিসগুলোর বিজ্ঞাপন দেখে এবং পণ্য ক্রয় করে । যার জামার প্রয়োজন তাদের কাছে জামার বিজ্ঞাপন পাঠাতে হবে, যাদের ওষুধের প্রয়োজন তাদের কাছে ওষুধের বিজ্ঞাপন পাঠাতে হবে ।

এরকম করে বয়স নির্বাচন করে যে ধরনের মানুষের যেমন পছন্দ  বা প্রয়োজন তেমন পণ্যের বিজ্ঞাপন পাঠাতে হবে । তবেই সে পণ্যটি বিক্রয় হবে । স্বাবলম্বীদের স্বাবলম্বীর মতো বিজ্ঞাপন, বৃদ্ধদের বৃদ্ধের মতো বিজ্ঞাপন অর্থাৎ বৃদ্ধ মানুষের যা প্রয়োজন সে ধরনের বিজ্ঞাপন । 

ব্যবসা সফল করতে যা প্রয়োজন

ব্যবসা সফল করতে অর্থাৎ ড্রপশিপিং বিজনেস সফল করতে আপনাকে কাস্টমারকে টার্গেট করতে হবে । তার কাছে বিজ্ঞাপন পাঠাতে হবে, তাকে আকর্ষিত করতে হবে এবং পণ্য বিক্রি করতে হবে ।পণ্যটি লোভনীয় করতে হবে, তবে একটি ব্যবসায়ে আপনি সফল হতে পারবেন । তাই আপনাকে প্রতিটি ধাপ ভালোভাবে পার করতে হবে । 

শেষ কথা 

বাংলাদেশের ড্রপশিপিং বিজনেস করতে চাইলে প্রথমে আপনাকে বিজনেসটা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে । আর বিজনেসটা সফল করার জন্য যা যা করা দরকার তাই তাই আপনাকে করতে হবে । তবেই আপনি এই বিজনেসটা  ভালোভাবে দাঁড় করাতে পারবেন । 

ড্রপশিপিং বিজনেস করার জন্য যা যা তথ্য দরকার সবটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি । তারপরেও অনেক কিছু ভুল ভ্রান্তি হতে পারে । কোন ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন । আর আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url